Students rally at hostel High Madrasha in Kanai Nagar, Maun protesting against Talwars’ militant attack


Own correspondent, Amar Bangla News.

 Madrasa Managing Committee Secretary Liakat Ali Munshi organized a candlelight procession with the journey along with students of Ladies hostel of Zakir Hossain Memorial High Madrasah at Kanai Nagar in Nadia. A silent procession, starting from High Madrasa, ends on a two-kilometer road road at the High Madrasa hostel. All the members of the Madrasa Managing Committee, Brande and Kainainagar community activists, Banda, participated in this Maun procession. Secretary Liakat Ali Munshi said that 42 people were killed in Kashmir by a militant bomb blast, we were shocked, we protested in its trials. We want revenge, we want blood of our soldiers who have left blood.

https://www.facebook.com/ABnewspage/

 Madrasah Managing Committee member Rezaul Mondal said, after the birth of India in 1947, 42 soldiers were martyred. We’re shocked, we want to protest.

https://www.facebook.com/ABnewspage/

 The main purpose of this procession is to seek peace of the souls of the deceased Jawans who killed the militants in Kashmir on February 14.

https://www.facebook.com/ABnewspage/
Advertisements

ফেসবুকের শুভ জন্মদিন আজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আজ ১৫ তম জন্মদিন। মার্ক জাকারবার্গের হাত ধরে ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনলাইনে একত্রীকরণের পরিকল্পনা থেকে ‘দ্য ফেসবুক’ নাম নিয়ে শুরু হয় ফেসবুকের যাত্রা। ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৩২ কোটি।

২০১৮ সালে ফেসবুকের মোট মুনাফা ছিল ২২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। ফেসবুকের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা না করা এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট ছড়ানোয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পুরুষেরও স্তন আছে ওদের ঢেকে রাখতে হয় না, তাহলে মেয়েদের কেন? তসলিমা নাসরিন

এ কথা সকলেই জানি যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে ইসলামি পোশাক পরার জন্য, মানুষকে, বিশেষ করে মেয়েদের, চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু অবাক হই যখন দেখি বাংলাদেশের মতো গণপ্রজাতন্ত্রীতেও চলে সেই চাপ। সম্প্রতি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সালোয়ার-কামিজ আর ওড়না পরা এক মেয়ের ছবি ছাপিয়ে লেখা হয়েছে, মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পোশাক। ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এই বলে, মেয়েদের শরীরে শারীরিক পরিবর্তনের কারণে মেয়েরা ঝুঁকে হাঁটে, তাই ওড়না পরে হাঁটলে সোজা হয়ে হাঁটতে পারবে। এরপর পাঠ্যবইয়ে হয়তো বোরখা পরা মেয়ের ছবির নিচে লেখা হবে, মেয়েদের উপযুক্ত পোশাক। বোরখা পরার পক্ষেও নানা রকম যুক্তি খাড়া করা হবে। আমার প্রশ্ন হলো, শরীরের পরিবর্তন হলে সেটা নিয়ে লজ্জা পেতে হবে কেন?
সেটাকে বাড়তি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে কেন? সবাই তো এই পরিবর্তনের কথা জানেই। কৈশোর থেকে তারুণ্যের পথে যাওয়ার সময় ছেলেদের গলার স্বরের পরিবর্তন ঘটে, সেই পরিবর্তনটা কি ওরা কিছু দিয়ে ঢেকে রাখে? ছেলেদের মুখে বুকে লোম গজায়, কী দিয়ে ঢাকা হয় ওসব? তাহলে মেয়েদের ঋতুস্রাবের ঘটনা গোপন রাখতে হয় কেন, মেয়েদের স্তনের ওপর কাপড়ের ওপর কাপড় চড়াতে হয় কেন? কেউ যেন না দেখে? কেউ যেন না বোঝে স্তন বলে কোনও বস্তু আছে কাপড়ের আড়ালে? ওড়নার উপস্থিতিই আসলে বলে দেয়, আছে, কিছু আছে। মেয়েরা ওড়না পরার কারণ তাহলে কি এই নয় যে, পুরুষ খারাপ, মেয়েদের বুকের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে পুরুষ, পুরুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে না, সভ্য কী করে হতে হয়, পুরুষ জানে না? মানি বা না মানি, মেয়েরা ওড়না পরা মানেই কিন্তু পুরুষের অপমান।
ওড়না না পরলে মেয়েদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে অসভ্য পুরুষ। কিছু লোক মনে করে, ঝাঁপিয়ে পড়বে। আসলে যারা ঝাঁপিয়ে পড়ার, তারা, মেয়েরা ওড়না পরলেও ঝাঁপিয়ে পরে, না পরলেও ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওড়না ওদের বাধা দিতে পারে না। ওদের মানসিকতার বদল করার জন্য ওড়না নয়, ওড়নার চেয়ে বড় কিছুর প্রয়োজন। সুশিক্ষার প্রয়োজন।
যতদিন মেয়েরা ওড়না পরবে, ততদিন মেয়েরা যে পুরুষদের বিশ্বাস করে না, সমাধান হলো, পুরুষের অসভ্য হওয়া বন্ধ করতে হবে। স্তন যে চর্বি পি-, প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক শারীরিক জিনিস- এ সম্বন্ধে ছেলেমেয়ে কেউ অজ্ঞ নয়। তাহলে এ জিনিস দেখতে এবং দেখাতে এত অসুবিধে কেন? মেয়েদের শরীর বলেই হয়তো অসুবিধে। পুরুষেরও স্তন আছে, সেই স্তনে যখন চর্বি জমে, তখন তো সেগুলোকে ঢেকে রাখতে বলা হয় না! পুরুষের শরীর বলেই হয়তো হয় না। ঘটে বুদ্ধি থাকলে যে কেউ বুঝবে, ওড়না পরা বা না-পরার ব্যবস্থা সম্পূর্ণই নারী-পুরুষের মধ্যে যে একটা কৃত্রিম সামাজিক পার্থক্য তৈরি করা হয়েছে, তার কারণে।
পছন্দমতো পোশাক পরার অধিকার মেয়েদের দেওয়া হয় না। অথচ পুরুষদের পোশাক নিয়ে কেউ কিন্তু আপত্তি করে না। তাদের যে পোশাক পরার ইচ্ছে, সে পোশাকই পরছে। শুধু মেয়েদের বেলায় চারদিকে অদৃশ্য নীতি-পুলিশ বসানো হয়েছে। এই বৈষম্য দূর না করলে সমতার সমাজ কী করে তৈরি হবে? পোশাক বিষয় নয়, পোশাক কিন্তু বিষয়ও। পোশাক দেখেই খানিকটা ঠাহর করা যায়, সমাজে মেয়েদের অবস্থান কোথায়।
ইস্কুলের গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়েও দেখলাম জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, মেয়েদের কী রঙের পোশাক পরা উচিত, কী রঙের পোশাক পরা উচিত নয়। মোটা মেয়েদের হাল্কা রঙের পোশাক পরতে হবে, তা না হলে তাদের আরও মোটা দেখাবে। তার মানে মোটা দেখানো খারাপ! মোটা মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ধুলোয় লুটিয়ে দেওয়া হয়েছে! অষ্টম শ্রেণির মেয়েদের শরীর নিয়ে, শরীরের গঠন নিয়ে, ভালো দেখাচ্ছে নাকি মন্দ দেখাচ্ছে তা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে ইস্কুলের বইয়ে। তার চেয়ে কি সমাজ এবং পরিবারের বৈষম্য এবং সমতা বিষয়ে মেয়েদের জ্ঞান দেওয়া জরুরি নয়? মেয়েদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করা জরুরি নয়? চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বলতর করার জন্য প্রেরণা দেওয়া জরুরি নয়?
স্কুলের ছেলেদের কি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়ানো হয়? মেয়েদের জন্য এই বিজ্ঞান যতটা জরুরি, তার চেয়ে আসলে বেশি জরুরি ছেলেদের জন্য। ঘর সংসার মেয়েদের কাজ, ছেলেদের আছে বাইরের জগৎ- এই ধারণা যে ভুল তা বারবার প্রমাণ হয়েছে। এই ধারণা মেয়েদের বিরুদ্ধে চিরকাল বৈষম্যই তৈরি করেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী মেয়েদের ঘর-বন্দি রেখেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। এই সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে মেয়েরা আজ ঘরের বাইরে, দেখিয়ে দিয়েছে যে কাজ পুরুষেরা করতে পারে, সে কাজ মেয়েরাও পারে। মেয়েরাও হতে পারে সফল চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পদার্থবিদ, বিজ্ঞানী, বৈমানিক, মহাকাশচারী, হতে পারে শিক্ষক, চিন্তক, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিদ, হতে পারে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পুলিশ, মিলিটারি, মন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রধান।
কিন্তু পুরুষ এখনও দেখাতে পারেনি, মেয়েরা যা পারে, তারাও তা পারে, তারাও ঘর সংসারের কাজ করতে পারে, সন্তান লালন পালন করতে পারে। সে কারণেই বলছি, মেয়েদের গার্হস্থ্য বিজ্ঞান যতটা পড়া উচিত, তার চেয়ে বেশি পড়া উচিত ছেলেদের। এই বিজ্ঞান সম্পর্কে মেয়েদের জ্ঞান থাকলেও, ছেলেদের প্রায় নেই বললেই চলে। মনে রাখতে হবে, সভ্য হতে চাইলে বৈষম্যের সমাজ নয়, সমতার সমাজ গড়ে তুলতে হবে, নারী-পুরুষের সমানাধিকার যতদিন না হবে, ততদিন সমাজ আর যাই হোক, সভ্য হবে না।
লেখক : নির্বাসিত লেখিকা।

লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

ডানকুনি সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক ‘সুভাশীষ সাহার’ বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘনীভূত হল বেদনাতুর মুহুর্ত

ডানকুনি সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল বিদায়ী শিক্ষক সুভাশীষ সাহার সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান। কেরাত পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আজকের অনুষ্ঠান। কেরাত পাঠ, গজল পরিবেশনা, সমবেত কন্ঠে গজল পরিবেশনা সহ একাধিক বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে শিক্ষক সুভাশীষ সাহার এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার ২৬ বছরের কর্মময় জীবনের কিয়দংশ।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সদস্যবৃন্দ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা,শিক্ষাকর্মীবৃন্দ, মাদ্রাসার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দ এবং এলাকার শুভানুধ্যায়ী মানুষ।

এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আরিফ হালদার, শিক্ষিকা সুপর্না মন্ডল, শিক্ষক সফিউল ইসলাম, শিক্ষক তথা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব, প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সাফাকাত হোসেন সাহেব, মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সম্পাদক হাসান মন্ডল, ডাঃ আলহাজ্ব সালিবুর রহমান সাহেব, মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সদস্য সারাবত মোল্লা, মনোহরপুর মডেল প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর সাহা, বিক্রমশীলার এডুকেশন ডিরেক্টর ববিতা মজুমদার প্রমুখ।

শিক্ষক আরিফ হালদার তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষক সুভাশীষ সাহা ১৯৯৩ সালে এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে উনি সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। তার ব্যবহারে শিক্ষক শিক্ষিকা সহ ছাত্র-ছাত্রীদের সকলেই আপ্লুত। দীর্ঘ ২৬ বছরে তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা মেলে ধরার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তাই তার বিদায় আমাদের কাছে বেদনার।”

মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সম্পাদক হাসান মন্ডল বলেন, “সাহাবাবু একজন অমায়িক মানুষ। তিনি এতই ভালো মানুষ যে তার বিদায়ের দিনে এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীরা এবং অভিভাবকেরাও তার প্রশংসা করছেন। তিনি ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে মাদ্রাসার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।”

ডাঃ আলহাজ্ব সালিবুর রহমান বলেন “তিনি ধর্মে হিন্দু হলেও মাদ্রাসার মত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ২৬ বছরে তার ধর্ম পরিচয়ের চেয়ে তার কর্তব্য, নিষ্ঠা, আদর্শ সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে।”

মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সদস্য সারাবত মোল্লা স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে বলেন, “মানুষের আগমন যেমন আনন্দ মুখর হয় তেমনি তার বিদায় মুহুর্তও হয় বেদনাদায়ক। আজকে শিক্ষক সুভাশীষ সাহার বিদায় শুধু ছাত্র-ছাত্রী নয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছেও খুবই বেদনার।”

মনোহরপুর মডেল প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর সাহা বলেন, “একজন শিক্ষক মহাশয় ছাত্র-ছাত্রীদের সন্তান স্নেহে পড়া শোনা করতে সহযোগিতা করেন। শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। সুভাশীষ বাবুও শিক্ষার্থীদের খুবই স্নেহ করতেন।”

বিক্রমশীলার এডুকেশন ডিরেক্টর ববিতা মজুমদার বলেন, ” আমাদের সমাজে শিক্ষকদের একটি বিশেষ জায়গা আছে। মাদ্রাসা বেসড ওয়ার্কশপ গুলিতে উনি যথেষ্ট সহযোগিতা করতেন। সহযোগিতা এবং সৌজন্যের ক্ষেত্রে উনি একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন। সাফাকাত হোসেন সাহেবেরও উনি ভুয়োসী প্রশংসা করেন আই টি তে পশ্চিমবঙ্গে রোল মডেল হওয়ার জন্য।”

শিক্ষিকা সুপর্না মন্ডল বলেন, “ওনার মধ্যে সকলকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল। আমাকে নিজের বোনের মত মনে করতেন। আমিও ওনাকে নিজের দাদা মনে করি এবং আগামীতেও তাই করবো।”

শিক্ষক সফিউল ইসলাম বলেন, “পড়াশোনা করার সাথে সাথে চরিত্রে গঠন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক কর্তব্য হল ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো ভাবে পড়াশোনা করানোর সাথে সাথে চরিত্র গঠনেও সাহায্য করা। আর মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে সুভাশীষ বাবুও এই কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করতেন।”

শিক্ষক তথা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব বলেন, “মানব জীবন অনেক ঘটনার সমন্বয়ে গঠিত। সুভাশীষ বাবুর শিক্ষকতা জীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সাফাকাত হোসেন বলেন “আজ সুভাশীষ সাহার ২৬ বছরের ইতিহাস এই মাদ্রাসার সাথে জড়িয়ে গেছে। মানুষ ভূমিষ্ঠ হলে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। শুধু মৃত্যুর তারিখটি জানা থাকেনা। কিন্তু একজন চাকরি প্রার্থী জানে চাকরি গ্রহন করার সাথে সাথেই জানতে পারে তার বিদায়ের তারিখ তথা অবসরের তারিখ। সাহাবাবুও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে তিনি ছিলেন শান্ত, ধীর এবং কর্মপরায়ন মানুষ। তার চরিত্র এবং আচরণ ছিল শিক্ষণীয়। ১১০০ ছাত্র-ছাত্রী সহ সকল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা সুভাশীষ বাবুকে আন্তরিক ভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজকর্মে যথেষ্ট সহযোগিতা করতেন।”

বিদায় প্রাপ্ত শিক্ষক সুভাশীষ সাহা বলেন “মাদ্রাসার শিক্ষকতা করতে গিয়ে আমার কখনও মনে হয়নি যে আমি অন্য ধর্মের মানুষ। এই মাদ্রাসায় দীর্ঘ ২৬ বছর কর্মরত থেকে আমি আল্লাহর কাছে সবসময় মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালো চেয়েছি এবং ভালো চাইবো। আমি অন্য ধর্মের মানুষ হয়ে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার জন্য অনেকের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। অনেকে জানতে চেয়েছে আমি সেখানে কেমন করে শিক্ষকতা করছি ? কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা ? অথচ আমি জানি এই মাদ্রাসার সকলে কত আন্তরিক, আমার সহকর্মী থেকে শুরু করে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা আমার সুখ দুঃখে সমব্যথী। ধর্মের এখানে কোনো বেড়া নেই। আছে শুধু হৃদয়ের বাঁধন।”

আজকের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক সুভাশীষ সাহাকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মানপত্র এবং উপহার দেওয়া হয়, উপহার দেওয়া হয় পরিচালন সমিতি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রথম শ্রেণী থেকে ফাযিল শ্রেনি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মন্ডলীর পক্ষ থেকে।

বেদনাঘন সম্বর্ধনার এই অনুষ্ঠান দোয়ার মজলিস তথা মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

সঙ্গে থাকুন, সব নিউজ আপডেট পেতে

বইমেলার পর এবারে ভাঙ্গড় কলেজ মাঠে জেলার পরিবেশ মেলা

দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার ভাঙ্গড় বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। ভোটের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রিয় জায়গা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

গত 23 শে জানুয়ারি সেই ভাঙ্গড়ের কলেজ ময়দানে দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার 24 তম বই মেলার শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও লাইব্রেরী মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, সেই বই মেলা শেষ হতে না আবার দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার পরিবেশ মেলা সেই ভাঙ্গড় কলেজ মাঠে ।আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সামিমা শেখ ও ভাঙ্গড় দুই নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি আরাবুল ইসলাম।
দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সামিমা শেখ বলেন- “আমাদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে দূষণ মুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশ গঠন করতে হবে” । ভাঙ্গড়ের তাজা নেতা আরাবুল ইসলাম বলেন- পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে আমাদের বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, তার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে”।

আর কলকাতায় নয় এবার পাসপোর্ট পরিষেবা অশোকনগরে।


সারা ভারতবর্ষে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্ট পরিষেবা প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। ‌ পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি পোস্ট অফিসে এই পরিষেবা ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। এবার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অশোকনগরে চালু হতে চলেছে এই পরিষেবা। কেন্দ্রীয় বিদেশ দপ্তর ও যোগাযোগ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বারাসাত মহাকুমার মধ্যে প্রথম ও জেলায় দ্বিতীয় এই পরিষেবা অশোকনগরে চালু হতে চলেছে। আগামী ১ লা ফেব্রুয়ারি থেকে জনসাধারণের জন্য চালু হবে পরিষেবা। সপ্তাহ খানেক আগেই এই জেলার বনগাঁয় চালু হয়েছে এই পরিষেবা। এদিন এই বিভাগের এক আধিকারিক জানান , কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসে যে যে নিয়মে এতদিন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করা যেত সেই নিয়মেই ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে, এরপর পদ্ধতি মেনে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে, পুলিশ ভেরিফিকেশন এর রিপোর্ট যাওয়ার তিন দিনের মধ্যেই স্পীড পোস্ট এ আবেদনকারীর বাড়িতে নতুন পাসপোর্ট চলে যাবে, নতুন পাসপোর্ট ছাড়া রিনুয়ালের কাজ হবে, দৈনিক ৪০টি আবেদনপত্র আপাতত নেয়া হবে, পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ভারত ক্ষুধার্ত মানুষের তালিকায় ১০৩ তম স্থানে, আপনি জানেন কী ?

আমাদের ভারতবর্ষ ক্ষুধার্ত মানুষের তালিকায় ১০৩ তম স্থানে। প্রতি বছর প্রায় বেশির ভাগ মানুষেরই মৃত্যু হয় এই ক্ষুধার্তের কারণে । কিন্তু আমাদের দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হয় তা যদি ক্ষুধার্ত মানুষগুলিকে দেওয়া হয় তাহলে তারা খেয়েও খাবার বেঁচে যাবে।

আমাদের কী কী পদক্ষেপের মাধ্যমে, আমরা ক্ষুধার্ত মানুষগুলিকে খাবার দিয়ে ক্ষুধার্তের সংখ্যা কমাতে পারি তা জেনেনেওয়া যাক।

প্রধানত আমাদের যেটা করতে হবে। আমরা যে যেখানে থাকি সেখানের আশেপাশে যেমন ফুটপাতে বা রাস্তার ধারে, স্টেশনে বা বাসস্ট্যান্ডে ও পারাতে খোঁজ নিতে হবে কোন ক্ষুধার্ত মানুষ আছেকি । যদি থাকে তাহলে আমাদের যেটা করণীয় বা করতে হবে, আশেপাশে যদি বিদ্যালয়ের মিড্ডেমিল বা কলেজের ক্যান্টিন থাকে তাহলে সেখানের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে যে আপনাদের এখানে যে সমস্ত বেঁচে যাওয়া খাবার আপনারা ফেলে দেন সেগুলো যদি ক্ষুধার্ত মানুষগুলিকে দেন । আশাকরছি বিদ্যালয়ের মিড্ডেমিল বা কলেজে ক্যান্টিনের প্রধানরা না করবেনা। এবং যদি কোন আনুষ্ঠান বাড়িতে বা বাড়িতে বেঁচে যাওয়া খাবার ফেলে না দিয়ে ক্ষুধার্ত মানুষদের সেই খাবার দিয়ে তাদের ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করতে হবে।

আজকে থেকেই তাহলে আমরা সবাই এগিয়ে আসি ক্ষুধার্ত মানুষদের সাহায্য করবার জন্য।

গোঘাটের সীতানগরে অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাভ’ এর সমাজ সেবায় উচ্ছসিত এলাকাবাসী

গতকাল গোঘাট থানার সীতানগর গ্রামের মানুষ উচ্ছসিত হয়ে উঠেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লিটিল অর্গানাইজেশন ফর ভিলেজার্স এডিফিকেশন’ তথা ‘লাভ’ এর সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। এদিন সংস্থার উদ্দ্যোগে এলাকার বেশ কিছু প্রবীন-প্রবীনাদের সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। প্রবীন-প্রবীনা মানুষ যাতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে এবং পরিবারের কাছে হেয় প্রতিপন্ন না হন তাই তাদের প্রতি সংস্থার পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে এই সম্মান প্রদান করা হয়।

এদিনের এই সামাজিক কর্মসূচী উপলক্ষে প্রায় শতাধিক বয়স্ক মানুষ এবং অল্পবয়সী বিধবা মহিলাদের শাড়ি, ধুতি ও শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এদিনের এই সামাজিক কর্মসূচী উপলক্ষে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গোঘাটের বিধায়ক মানস মজুমদার, গোঘাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ চন্দ্র পাঁজা, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ রায়, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা শ্রী ধরনীধর রায়, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা অচ্যুত চ্যাটার্জি, সংগঠনের রাজ্য আহ্বায়ক জনাব সেখ মাবুদ আলি, বিশিষ্ট সমাজ সেবী জনাব হাসান মোল্লা, সবেদ আলি মন্ডল এবং সেখ জাহাঙ্গীর, সংগঠনের সভাপতি তারকনাথ রায়, জেনারেল সেক্রেটারি শ্যামলী পাত্র, সেক্রেটারি তথা অন্যতম মুখ্য সংগঠক সাংবাদিক কৃষ্ণ প্রসাদ পাত্র সহ হুগলি জেলার আহ্বায়ক প্রশান্ত কর্মকার, রঘুবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা সাঁতরা প্রমুখ।

এই উপলক্ষে এদিন ছোটদের জন্য ছিল বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, যেমন খুশি তেমন সাজো সহ একগুচ্ছ প্রতিযোগিতা মুলক কর্মসূচী। এছাড়া আয়োজন করা হয়েছিল ম্যাজিক শোয়ের। ম্যাজিক শোয়ের প্রদর্শনীতে ম্যাজিশিয়ান সৌমেন কর্মকারের সাথে সাথে সংস্থাও এলাকাবাসীর মন জয় করে নেয়।

ডানকুনি সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক ‘সুভাশীষ সাহার’ বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘনীভূত হল বেদনাতুর মুহুর্ত

ডানকুনি সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক ‘সুভাশীষ সাহার’ বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে ঘনীভূত হল বেদনাতুর মুহুর্ত

সেখ জিন্নাত আলি, বিবি নিউজ, ডানকুনি, ৩১শে জানুয়ারি ২০১৯ : আজ ডানকুনি সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল বিদায়ী শিক্ষক সুভাশীষ সাহার সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান। কেরাত পাঠের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আজকের অনুষ্ঠান। কেরাত পাঠ, গজল পরিবেশনা, সমবেত কন্ঠে গজল পরিবেশনা সহ একাধিক বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে শিক্ষক সুভাশীষ সাহার এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার ২৬ বছরের কর্মময় জীবনের কিয়দংশ।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সদস্যবৃন্দ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা,শিক্ষাকর্মীবৃন্দ, মাদ্রাসার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দ এবং এলাকার শুভানুধ্যায়ী মানুষ।

এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আরিফ হালদার, শিক্ষিকা সুপর্না মন্ডল, শিক্ষক সফিউল ইসলাম, শিক্ষক তথা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব, প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সাফাকাত হোসেন সাহেব, মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সম্পাদক হাসান মন্ডল, ডাঃ আলহাজ্ব সালিবুর রহমান সাহেব, মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সদস্য সারাবত মোল্লা, মনোহরপুর মডেল প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর সাহা, বিক্রমশীলার এডুকেশন ডিরেক্টর ববিতা মজুমদার প্রমুখ।

শিক্ষক আরিফ হালদার তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষক সুভাশীষ সাহা ১৯৯৩ সালে এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে উনি সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। তার ব্যবহারে শিক্ষক শিক্ষিকা সহ ছাত্র-ছাত্রীদের সকলেই আপ্লুত। দীর্ঘ ২৬ বছরে তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা মেলে ধরার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তাই তার বিদায় আমাদের কাছে বেদনার।”

মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সম্পাদক হাসান মন্ডল বলেন, “সাহাবাবু একজন অমায়িক মানুষ। তিনি এতই ভালো মানুষ যে তার বিদায়ের দিনে এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীরা এবং অভিভাবকেরাও তার প্রশংসা করছেন। তিনি ধর্মের গন্ডি পেরিয়ে মাদ্রাসার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন।”

ডাঃ আলহাজ্ব সালিবুর রহমান বলেন “তিনি ধর্মে হিন্দু হলেও মাদ্রাসার মত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ২৬ বছরে তার ধর্ম পরিচয়ের চেয়ে তার কর্তব্য, নিষ্ঠা, আদর্শ সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে।”

মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির সদস্য সারাবত মোল্লা স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে বলেন, “মানুষের আগমন যেমন আনন্দ মুখর হয় তেমনি তার বিদায় মুহুর্তও হয় বেদনাদায়ক। আজকে শিক্ষক সুভাশীষ সাহার বিদায় শুধু ছাত্র-ছাত্রী নয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছেও খুবই বেদনার।”

মনোহরপুর মডেল প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর সাহা বলেন, “একজন শিক্ষক মহাশয় ছাত্র-ছাত্রীদের সন্তান স্নেহে পড়া শোনা করতে সহযোগিতা করেন। শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। সুভাশীষ বাবুও শিক্ষার্থীদের খুবই স্নেহ করতেন।”

বিক্রমশীলার এডুকেশন ডিরেক্টর ববিতা মজুমদার বলেন, ” আমাদের সমাজে শিক্ষকদের একটি বিশেষ জায়গা আছে। মাদ্রাসা বেসড ওয়ার্কশপ গুলিতে উনি যথেষ্ট সহযোগিতা করতেন। সহযোগিতা এবং সৌজন্যের ক্ষেত্রে উনি একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন। সাফাকাত হোসেন সাহেবেরও উনি ভুয়োসী প্রশংসা করেন আই টি তে পশ্চিমবঙ্গে রোল মডেল হওয়ার জন্য।”

শিক্ষিকা সুপর্না মন্ডল বলেন, “ওনার মধ্যে সকলকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল। আমাকে নিজের বোনের মত মনে করতেন। আমিও ওনাকে নিজের দাদা মনে করি এবং আগামীতেও তাই করবো।”

শিক্ষক সফিউল ইসলাম বলেন, “পড়াশোনা করার সাথে সাথে চরিত্রে গঠন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক কর্তব্য হল ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো ভাবে পড়াশোনা করানোর সাথে সাথে চরিত্র গঠনেও সাহায্য করা। আর মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে সুভাশীষ বাবুও এই কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করতেন।”

শিক্ষক তথা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব বলেন, “মানব জীবন অনেক ঘটনার সমন্বয়ে গঠিত। সুভাশীষ বাবুর শিক্ষকতা জীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ সাফাকাত হোসেন বলেন “আজ সুভাশীষ সাহার ২৬ বছরের ইতিহাস এই মাদ্রাসার সাথে জড়িয়ে গেছে। মানুষ ভূমিষ্ঠ হলে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। শুধু মৃত্যুর তারিখটি জানা থাকেনা। কিন্তু একজন চাকরি প্রার্থী জানে চাকরি গ্রহন করার সাথে সাথেই জানতে পারে তার বিদায়ের তারিখ তথা অবসরের তারিখ। সাহাবাবুও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে তিনি ছিলেন শান্ত, ধীর এবং কর্মপরায়ন মানুষ। তার চরিত্র এবং আচরণ ছিল শিক্ষণীয়। ১১০০ ছাত্র-ছাত্রী সহ সকল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা সুভাশীষ বাবুকে আন্তরিক ভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজকর্মে যথেষ্ট সহযোগিতা করতেন।”

বিদায় প্রাপ্ত শিক্ষক সুভাশীষ সাহা বলেন “মাদ্রাসার শিক্ষকতা করতে গিয়ে আমার কখনও মনে হয়নি যে আমি অন্য ধর্মের মানুষ। এই মাদ্রাসায় দীর্ঘ ২৬ বছর কর্মরত থেকে আমি আল্লাহর কাছে সবসময় মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালো চেয়েছি এবং ভালো চাইবো। আমি অন্য ধর্মের মানুষ হয়ে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার জন্য অনেকের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। অনেকে জানতে চেয়েছে আমি সেখানে কেমন করে শিক্ষকতা করছি ? কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা ? অথচ আমি জানি এই মাদ্রাসার সকলে কত আন্তরিক, আমার সহকর্মী থেকে শুরু করে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা আমার সুখ দুঃখে সমব্যথী। ধর্মের এখানে কোনো বেড়া নেই। আছে শুধু হৃদয়ের বাঁধন।”

আজকের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষক সুভাশীষ সাহাকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মানপত্র এবং উপহার দেওয়া হয়, উপহার দেওয়া হয় পরিচালন সমিতি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রথম শ্রেণী থেকে ফাযিল শ্রেনি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মন্ডলীর পক্ষ থেকে।

বেদনাঘন সম্বর্ধনার এই অনুষ্ঠান দোয়ার মজলিস তথা মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

Create your website at WordPress.com
Get started