ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের রাজ্য সমাবেশে জনজোয়ার ভাসল কলকাতা

আবদিন মল্লিক , হুগলী , ৩১শে জানুয়ারি ২০১৯

ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের প্রতিষ্ঠাতা পীরজাদা জনাব আব্বাস সিদ্দিকীর ডাকে আজকের রাজ্য সমাবেশে কলকাতায় একটি ইতিহাস রচয়িত হল। আজকের এই সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম বুঝিয়ে দিল যে মুসলিমরা এখনও বেঁচে আছে মরে যাইনে।আজকের এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের কর্নধার পীরজাদা জনাব আব্বাস সিদ্দিকী,পীরজাদা জনাব জুনায়েদ সিদ্দিকী,পীরজাদা জনাব আয়ুব সিদ্দিকী,প্রমুখ আজকের এই সমাবেশে পীরজা জনাব আব্বাস সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে আমাদের ভারতবর্ষে যে জায়গায় দাড়িয়ে আছে তাতে করে আমাদের এগিয়ে না এলে হইত লাচ্ছনা অপমানিত ছাড়া আমাদের কপালে আর কিছুই জুটবে না। তাই আমাদের প্রয়োজনীয় পাওনা আমরা যদি না পাই তাহলে আমাদের নিজেদেরকেই আমাদের পাওনা বুঝে নিতে হবে তাই আমাদের সকলকেই একত্বিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রত্যেক রাজনীতি দলের নেতার মুখে আমরা শুনে আসি মুসলমানদের এই করেছি ওই করেছি প্রকৃতই আসলে কিছুই করে না। মুসলিমদের আজ এরা সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু বলে চেঁচাই আসলে আমরা কি সত্যিই সংখ্যালঘু নাকি আমাদের সংখ্যালঘু বানিয়ে রাখা হয়েছে মুসলিম ঘরের মধ্যে কি শিক্ষিত ছেলে মেয়ে নেই। মুসলিমরা কি এতোই শিক্ষাই পিছনে পড়ে আছে। আমার তো মনে হয় না মুসলিম ঘরের ছেলে মেয়েরা যতেষ্ঠ শিক্ষিত।আমি চাই আমার এই ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাত দলে কয়েক লক্ষ সদস্য তৈরী করে আমরা আমাদের প্রাপ্ত বুঝে নেব। তাই এখনে পযর্ন্ত যারা আমার এই সুন্নাতুল জামাত দলের সদস্য হতে চান তারা ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের অফিসে যোগাযোগ করবেন “

হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মমতার ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আন এডেড মাদ্রাসা শিক্ষকরা

রাজ্য সরকারের অনুদান পাওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে অন্দোলন চালিয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গের সরকার স্বীকৃত আন এডেড মাদ্রাসাগুলি। তাদের দাবি ভারতীয় সংবিধানের ৩০ ধারায় সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে বৈষম্য করা যাবে না, এমন উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় তো দূরের কথা আন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও বেতন দিচ্ছে না। অথচ, ২০১৩ সালে রাজ্যের সংখ্যাললঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষঅ দফতরের প্রধান সচিব এক সার্কুলারে আন এডেড মাদ্রাসাগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলেছিলেন। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের এক শ্রেণির আধিকারিকের উদাসীনতায় আন এডেড মাদ্রাসায় সেই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে মাসখানেক আগে বিভিন্ন জেলায় নানা প্রতিবাদ মিছিল করেছে আন এডেড মাদ্রাসা শিক্ষকরা। এমনকী জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে। তারপরও সরকার কোনও সক্রিয়তা না দেখায়নি। যদিও এ নিয়ে আন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষকরা আন্দোলনে খামতি দিচ্ছেন না। তবে তাদের এই আন্দোলনে বল যোগাচ্ছে একটি জনস্বার্থ মামলা। ২৩৪ টি সরকার অনুমোদিত আন্ এডেড মাদ্রাসাগুলিতে অনুদানের জন্যে কলকাতা হাইকোটের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই জনস্বার্থ মামলা করেন মুর্শিদাবাদের লালগোলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়স্ক মাইনুদ্দিন আহমেদ। গত ৪ জানুয়ারি সেই মামলার প্রথম শুনানি হয় এবং দ্বিতীয় শুনানিতে ১১ জানুয়ারি মহামান্য প্রধান বিচারপতি আন এডেড মাদ্রাসার সাহায্যের জন্য সংখ্যালঘু দফতরের প্রদান সচিবের রিপোর্ট তলব করেন। কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারিতে হওয়া শুনানিতেও কোন রিপোট পেশ করা হয়নি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।উল্টে সরকারি আইনজীবী বিচারপতির কাছে আরো দু সপ্তাহ সময়ের জন্যে আবেদন জানান। সেই আবদেনের ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চ দু সপ্তাহ সময় দেয় এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারিতে শুনানির দিন রিপোট দেওয়ার কথা বলা হয়।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ আন্ এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির রাজ্য সম্পাদক আব্দুল ওহাব মোল্লা বলেন, তাদের আমা রাজ্য সরকার শুনানির সময় আশার বাণী শোনাবে। সামনে লোকসভা নির্বাচন। রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আন এডেড মাদ্রাসাগুলিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশা। মাদ্রাসা শিক্ষা শুধু নয়, সংখ্যালঘু সমাজের শিক্ষার উন্নয়ের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের দিকেই তাই তাকিয়ে রয়েছেন আ্ন এডেড মাদ্রাসার শিক্ষক-অভিভাবকবৃন্দ।

Create your own website, free on WordPress.com.Create your own website.
Start free